Pages
- হোম
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
- অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় II ATIN BANDOPADHYAY
- অদ্রীশ বর্ধন II ADRISH BARDHAN
- অনীশ দাস অপু II ANISH DAS APU
- অনীশ দেব II ANISH DEB
- অনুবাদ বই
- অন্নদাশঙ্কর রায় II ANNADASHANKAR RAY
- আগাথা ক্রিষ্টি II Agatha Christie
- আশাপূর্ণা দেবী
- আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
- ইসলামী বই II ISLAMI BOOKS
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী II Upendrakishore Ray Chowdhury
- ঐতিহাসিক বই
- ওয়েস্টার্ন বই
- কবিতার বই
- কাজী নজরুল ইসলাম
- গজেন্দ্রকুমার মিত্র II GAJENDRAKUMAR MITRA
- জয় গোস্বামী II JOY GOSWAMI
- জীবন গঠনমূলক/মোটিভেশনাল বই II MOTIVATIONAL BOOKS
- জীবনী/আত্মজীবনী II BIOGRAPHY BOOKS
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- তিন গোয়েন্দা
- দস্যু বনহুর II DOSSU BANHUR II ROMENA AFAZ
- দীনেন্দ্রকুমার রায় II Dinendrokumar Roy
- দীনেশচন্দ্র সেন II DINESH CHANDRA SEN
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
- নারায়ণ সান্যাল
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত
- প্রফুল্ল রায়
- প্রেমেন্দ্র মিত্র
- ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডকুমেন্টস
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
- বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- বিমল কর
- বিমল মিত্র
- বুদ্ধদেব গুহ
- বুদ্ধদেব বসু II BUDDHADEB BASU
- মনোজ বসু II MANOJ BASU
- মহাশ্বেতা দেবী
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- মাসুদ রানা/MASUD RANA SERIES
- মুহম্মদ জাফর ইকবাল
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- রহস্য-রোমাঞ্চ/থ্রিলার/গোয়েন্দা কাহিনী
- লীলা মজুমদার
- শক্তিপদ রাজগুরু II SHAKTIPADA RAJGURU
- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- শামসুর রাহমান
- শিশুতোষ/কিশোর সাহিত্য
- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- শেখ আবদুল হাকিম II SHEIKH ABDUL HAKIM
- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
- সত্যজিৎ রায়
- সমরেশ বসু
- সমরেশ মজুমদার
- সাইমুম সিরিজ II SAIMUM SERIES
- সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- সুবোধ ঘোষ II SUBODH GHOSH
- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
- স্মরণজিৎ চক্রবর্তী II Smaranjit Chakraborty
- স্বপন কুমার II SWAPAN KUMAR
- হরর কাহিনী/ভূতের বই
- হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
- হুমায়ূন আহমেদ
- হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড ll HENRY RIDER HAGGARD
- হেমেন্দ্রকুমার রায়
Sunday, June 22, 2025
কলকাতার রাত্রি রহস্য - হেমেন্দ্রকুমার রায় (কৌশিক মজুমদার সম্পাদিত)
রবিন হুড - কুলদারঞ্জন রায়
রবিন হুডের মনোমুগ্ধকর অভিযানের আখ্যানে, প্রিয় পাঠক, আপনাকে স্বাগতম।
বিখ্যাত এই ডাকাত সর্দার আর অনুসারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন শেরউডের গহিন অরণ্য থেকে। শুধু তাই না, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে রক্ষা করতে পারেন অত্যাচারিতদের, মোকাবেলা করতে পারেন অবিচারের। ডুব দিতে পারেন তির প্রতিযোগিতা, গা শিউরে তোলা অভিযান আর গোপন সব আড্ডায়। বইটির প্রতি পাতা রবিন হুডের অসাধারণ দক্ষতা, এবং তার চাইতেও অসাধারণ মানসিকতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে আপনাদের।
তবে হ্যাঁ, বিপদও আছে কিন্তু। নটিংহামের শেরিফ, গাই অফ গিসবোর্ন, আর অত্যাচারী হারফোর্ডের বিশপ আচমকা আপনার পথ আটকে দাঁড়ালে আবার বলবেন না যেন: আগে কেন সাবধান করে দিইনি! তবে ভয় নেই, হাতের শিঙ্গায় জোরে তিনটি ফুঁ দিন। লিটল জন, উইল স্টাটলি, মালচ আর উইল স্কারলেটসহ পুরো দস্যুদলকে নিয়ে ছুটে আসবে রবিন...
...এই কথাটা বোধহয় দেওয়াই যায়!
আশ্চর্য দ্বীপ - জুল ভের্ন (অনুবাদ - কুলদারঞ্জন রায়)
জুল ভের্ন রচিত ‘দ্য মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড’ অবলম্বনে কুলদারঞ্জন রায় অনূদিত আশ্চর্য দ্বীপ। বিখ্যাত ফরাসি লেখক জুল ভের্ন বিজ্ঞানভিত্তিক রোমাঞ্চকর কাহিনি লিখেছেন প্রায় দেড়শো বছর আগে, কিন্তু আজও সেই অপূর্ব অ্যাডভেঞ্চারের গল্পগুলি কিশোর-চিত্তে রোমাঞ্চ জাগায়।
জুল ভের্ন ১৮৭২ কিংবা ১৮৭৩ এর শুরুতে এই উপন্যাসটি লেখা শুরু করেন। মূল উপন্যাসে প্রচুর কেমিক্যাল প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তির বর্ণনা রয়েছে। উপন্যাসটি লেখার সময় লেখক অনেকটা সময় কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে গিয়ে কেমিস্টদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। অনেক সমালোচকের মতে উপন্যাসে বর্ণিত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট এরকম আশ্চর্য দ্বীপের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয় যেখানে এত বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি এবং গাছপালার সম্ভার দেখা যাবে। অন্য একদল সমালোচকের মতে লেখক লিঙ্কন দ্বীপ বলতে গোটা পৃথিবীতে মানব সভ্যতার বিকাশকেই বুঝিয়েছেন, যেখানে আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে গুলি-বারুদ তৈরি সবই দেখানো হয়েছে।
বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলি যাঁরা বাংলা ভাষায় সার্থক অনুবাদ করে দেশের ছেলেমেয়েদের হাতে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কুলদারঞ্জন রায় একজন পথিকৃৎ। উপন্যাসটি ধারাবাহিক আকারে প্রথম প্রকাশিত হয় সন্দেশ পত্রিকায় বৈশাখ ১৩৩২ সালে ত্রয়োদশ বর্ষ ১ম সংখ্যা থেকে। সেই সঙ্গে জুল ফিহা-র মূল অলংকরণগুলিও প্রকাশিত হয়েছিল। পরে লীলা মজুমদার এবং সত্যজিৎ রায়ের সম্পাদনায় সন্দেশে বৈশাখ ১৩৭১ থেকে চৈত্র ১৩৭৩ অবধি উপন্যাসটি ধারাবাহিক আকারে পুনঃপ্রকাশিত হয়েছিল। কয়েকটি অলংকরণ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।
Monday, June 16, 2025
নিরভিসন্ধি - কৌশিক মজুমদার
নীবারসপ্তক - কৌশিক মজুমদার
Wednesday, June 4, 2025
যব খেত জাগে - কৃষণ চন্দর
রাঘব রাও-এর বয়স বাইশ। জেলখানায় আজ তার শেষ রাত। আগামীকাল ভোরে তাকে ফাঁসী দেয়া হবে।জেলের অন্ধ কুঠরীতে শুয়ে শুয়ে রাঘব রাও তার ফেলে-আসা দিন-গুলির দিকে একবার ফিরে তাকাল-তার সমস্ত জীবনের ওপর একবার নিমেষে চোখ বোলালো। খুব সাবধানে সে তার স্বল্প পরিসর জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে এক এক করে গুনতে লাগল। কিসান যেমনটি ভাবে নগদ পাই-পয়সা থলিতে রাখার আগে ভালো করে উলটে পালটে দেখে, ঠিক সেইরকম সাবধান সতর্কতা আর সংশয়ের ভাব নিয়ে রাঘব রাও তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উলটে-পালটে পরখ করতে লাগল...
নয়া ইস্তেহার - কৃষণ চন্দর
গাঁয়ের সব লোক চণ্ডীমণ্ডপে জড়ো হয়েছে; পিপুল গাছের নীচে। গাছের গুড়িতে ঝুলছে লাল লাল গুতো। সেখানে রয়েছে অনেক ঠাকুর-সিপুর মাখানো। আচারিয়া বক্তৃতা দিচ্ছেন। দীর্ঘকায় চেহারা, গাল তোবড়ানো। চিবুকে দাড়ি। চশমার কাঁচের ওপরের ভাগটা দূরের জিনিস দেখার জন্তে, নীচের ভাগটা কাছের জিনিস। দুই অংশের মাঝখানে তাঁর গুলির মতো গোল গোল চোখের মণি দুটো ওপরে নীচে অনবরত ওঠা-নামা করছে। এভাবেই বইটির শুরু....
Saturday, May 24, 2025
বাঙালির রঙ্গব্যাঙ্গ চর্চা - চণ্ডী লাহিড়ী
বাঙালির রঙ্গব্যঙ্গচর্চার ইতিহাস - পুরোনো কালের দুর্লভ কার্টুন, দুষ্প্রাপ্য লেখায় সমৃদ্ধ বাংলাসাহিত্যের অনন্য রসধারার আকর-গ্রন্থ...
Thursday, January 2, 2025
আত্মকথা - আবুল মনসুর আহমদ
দীর্ঘদিন পর একটা আত্মজীবনী শেষ করে মনে হল নাহ,জীবনকথা লিখবার হলে এভাবেই লিখতে হয়, এমনতরভাবেই গোছাতে হয়। শুধু আমিত্বে আত্মের কথা বলা সম্পূর্ণ হয় না, আমরা'য় নিমজ্জিতে পূর্ণতা পায় আত্মকথা। সেই পূর্ণতাকে আরো রাঙিয়ে তোলে, আত্মকথার রচিয়তা যে যুগের সন্তান, সেই সময়ের আর্থসামাজিক জীবন যখন অমলিনভাবে উপস্থাপিত হয় লেখাতে, স্মৃতিতে।
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের "আত্মকথা " বাঙালি মুসলমানের সময়কে ধারণ করেছে যে সময়ে হয়েছে দেশভাগ, হয়েছে সাম্প্রদায়িক তিক্ততা, বেড়েছে ক্রোশ ক্রোশ দূরত্ব। বেশকিছু বেসিক প্রশ্নের মাধ্যমে, ঘটনা বর্ণনার প্রেক্ষিতে মনে বদ্ধমূল কিছু ধারণায় ধাক্কা দিয়েছেন আবুল মনসুর আহমদ। যেমনঃ বাটোয়ারাপূর্ব সাহিত্যে বাঙালি মুসলমান নাই। অথচ বাঙালি মুসলমানরাই ছিল সংখ্যাগুরু। কেন নাই? এক সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়ের ভালো মানতে রাজি না। কেন? এমনই বাঙালি মুসলমানের হালঃ
"আরেকটি মজার ব্যাপার এখানে উল্লেখ না করিয়া পারিতেছি না বন্ধুবান্ধবের কাছে শুনিলাম, কলিকাতার বেশ্যারাও মুসলমান খরিদ্দার গ্রহণ করে না । পরে এই কথার এইরূপ ব্যাখা শুনিলাম যে মুসলমান খরিদ্দারদিগকেও "হিন্দু বেশে" অর্থাৎ ধুতি পরিয়া বেশ্যাবাড়িতে যাইতে হয়। " ( পৃষ্ঠা ১৭৭)
আত্মজীবনী হিসেবে এর একটি বিশেষত্ব অধ্যায়ভিত্তিক আকারে তা লেখা। সাধুভাষায় পুরো বই। অথচ পড়তে গিয়ে তা টেরই পাইনি। খুবই সুলিখিত।
জনাব আবুল মনসুর তাঁর বইতে অনেক অজানা তথ্য, ঘটনার কথা লিখেছেন। যেকোনো কৌতূহলী পাঠকমাত্রই তা লুফে নেবে। যেমনঃ দ্বিতীয়পর্যায়ে নবযুগ পত্রিকার সম্পাদনা করছেন আবুল মনসুর। কিন্তু সম্পাদক হিসেবে কাজী নজরুলের নাম ছাপা হত। এই সময়েরই ঘটনা, তখনও নজরুল অসুস্থ হননি। পড়ুন মনসুর সাহেবের জবানিতে,
"ইতিমধ্যে নজরুল ইসলাম সাহেবের মধ্যে একটু-একটু মস্তিষ্ক বিকৃতি দেখা দিল। আগেই শুনিয়াছিলাম, তিনি বরদাবাবু নামে জনৈক হিন্দু যোগীর নিকট তান্ত্রিক যোগ সাধনা শুরু করিয়াছেন।" ( পৃষ্ঠা ২৯৭)
আবুল মনসুর শতভাগ রাজনীতিক তা পুরো বই পড়তে গিয়ে মাথায় রেখেছিলাম। তাঁর নীতি বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতি হিন্দু বাঙালি হতে আলাদা। তাই তাদের কথাসাহিত্য প্রভৃতিও আলাদা হবে ইত্যাদি তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। লিখেছেনও তা সোজাসুজি। তবে কি মনসুর সাহেব সবক্ষেত্রে ঘটনা বয়ানে সাধুতা রক্ষা করেছেন বলতে পারিনা। কেননা পুরো বই পড়ার পর বাঙালি মুসলমান সন্তান আবুল মনসুর আহমদকে অনেকখানি ভুল-ত্রুটির ঊর্ধে বোধ হয়। তাতেই ফিকে হয়ে আসে আত্মজীবনী লিখবার অন্যতম শর্তঃ নিজের প্রতি সৎ থেকে যতদূর সম্ভব নিরপেক্ষভাবে স্মৃতিকে ঘাঁটিয়ে তার বর্ণনা লেখা।
তবুও এক মুসলমান কংগ্রেসীর, এক কৃষক-প্রজা আন্দোলন কর্মীর, এক সুসাহিত্যিক এবং একজন রাজনীতিবিদের কলমে নিজের সময়ের ছবিকে অঙ্কন যথেষ্ট সুখপাঠ্য হয়েছে তা অস্বীকার করা মিথ্যার সমতুল্য হবে।
বইটি পড়তে বা ডাউনলোড করতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন...
Friday, December 20, 2024
শঙ্কু সমগ্র - সত্যজিৎ রায়
প্রফেসর শঙ্কু কে? তিনি এখন কোথায়? এটুকু জানা গেছে যে তিনি একজন বৈজ্ঞানিক। কেউ কেউ বলে তিনি নাকি একটা ভীষণ পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আবার এও শোনা যায় যে তিনি কোনো অজ্ঞাত অঞ্চলে গা ঢাকা দিয়ে নিজের কাজ করে যাচ্ছেন, সময় হলেই আত্মপ্রকাশ করবেন। প্রফেসর শঙ্কুর প্রতিটি ডায়েরিতে কিছু না কিছু আশ্চর্য অভিজ্ঞতার বিবরণ আছে। কাহিনীগুলো সত্য কি মিথ্যা, সম্ভব কি অসম্ভব, সে বিচার পাঠকরা করবেন!
Sunday, December 15, 2024
ভৌতিক গল্পসমগ্র - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য মুন্সিয়ানা অশরীরীদের অদ্ভুত জগৎ সৃষ্টিতে। কিশোর সাহিত্যে ‘ভূত’দের নিয়ে এক নতুন রস প্রবাহিত করেছেন। ভূত মানেই ভয়ঙ্কর নয়, ভূত মানুষের প্রতিবেশী, ভূত হতে পারে মজার, আবার তা সঙ্গে একটু ছোঁয়া থাকবে শিরশিরে অনুভূতিরও, শীর্ষেন্দুর ভূতেরা অনেকটা এইরকম। আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিটি গল্পই একেবারে নতুন স্বাদের, কোনও গল্পের সঙ্গেই তার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেইসব অদ্ভুতুড়ে ভূতেদের একজায়গায় জড়ো করে পরিবেশিত হলো ভৌতিক গল্পসম্ভার। এর কুড়িটা গল্পে রয়েছে কুড়ি রকম ভূত। ‘দুই পালোয়ান’থেকে শুরু করে ‘কোগ্রামের মধুপণ্ডিত’- বাকি নেই কেউ।
Friday, December 13, 2024
মাধুকরী - বুদ্ধদেব গুহ
পৃথু ঘোষ চেয়েছিল, বড় বাঘের মতো বাঁচবে। বড় বাঘের যেমন হতে হয় না কারও উপর নির্ভরশীল - না নারী, না সংসার, না গৃহ, না সমাজ - সেভাবেই বাঁচবে সে, স্বরাট, স্বয়ম্ভর হয়ে। তার বন্ধু ছিল তথাকথিত সভ্য সমাজের অপাঙক্তেয়রা। পৃথু ঘোষ বিশ্বাস করত, এই পৃথিবীতে এক নতুন ধর্মের দিন সমাসন্ন। সে-ধর্মে সমান মান-মৰ্য্যদা এবং সুখ-স্বাধীনতা পাবে প্রতিটি নারী-পুরুষ। বিশ্বাস করত, এই ছোট্ট জীবনে বাঁচার মতো বাঁচতে হবে প্রতিটি মানুষকে। শুধু প্রশ্বাস নেওয়া আর নিশ্বাস ফেলা বাঁচার সমার্থক নয়। কিন্তু সত্যিই কি এভাবে বাঁচতে পারবে পৃথু ঘোষ? সে কি জানবে না, বড় বাঘের মতো বাঁচতে পারে না কোনও নরম মানুষ? জন্ম থেকে আমৃত্যুকাল অগণিত নারী-পুরুষ-শিশুর হৃদয়ের, শরীরের দোরে-দোরে হাত পেতে ঘুরে-ঘুরে বেঁচে থাকাই মানুষের নিয়তি? এই পরিক্রমারই অন্য নাম মাধুকরী?
এক আলোড়ন-তোলা কাহিনীর মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন ভাষ্যেরই এক অসাধারণ ভাষারূপ এ-যুগের অন্যতম জনপ্রিয় কথাকার বুদ্ধদেব গুহর এই বিশাল, বৰ্ণময়, বেগবান উপন্যাস। এ শুধু ইঞ্জিনিয়ার পৃথু ঘোষের বিচিত্র জীবনকাহিনী নয়, নয় “উওম্যানস লিব’-এর মূর্ত প্রতীক তার স্ত্রী রুষার দ্বন্দ্বময় জীবনের গল্প, এমনকি, জঙ্গলমহলের অকৃত্রিম কিছু শিকড় খুঁজেফেরা মানুষের অজানা উপাখ্যানও নয়। এ-সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে তবু এ-সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে 'মাধুকরী' এই শতকের মানুষের জীবনের যাবতীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী প্রজন্মের মানুষের সার্থকভাবে বেঁচে থাকার ঠিকানা। এই কারণেই বুঝি এ-উপন্যাস উৎসর্গ করা হয়েছে 'একবিংশ শতাব্দীর নারী ও পুরুষদের' হাতে। সাধারণ পাঠকের মন ও বুদ্ধিজীবী পাঠকের মনন - দু-তন্ত্রীতেই একসঙ্গে ঝঙ্কার তোলার উপন্যাস 'মাধুকরী'। এর কাহিনী, ভাষা, স্টাইল, জীবনদর্শন, শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমারেখা - সবই নতুন। জীবনের প্রতি আসক্তি ও আসক্তির মধ্যে লুকিয়ে-থাকা বিতৃষ্ণাকে যে-চমকপ্ৰদ ভঙ্গিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন বুদ্ধদেব গুহ, যে-নৈপুণ্যে বর্ণনায় এনেছেন সূক্ষ্মতা, যে-কুশলতায় ছোট-বড় প্রতিটি চরিত্রকে দেখিয়েছেন চিরে-চিরে, যে-দক্ষতায় দেশি-বিদেশি অজস্ৰ কবিতার ব্যবহার - সে-সবই এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পাঠককে। বাংলা সাহিত্যে ব্যতিক্রমী সংযোজন ‘মাধুকরী'।
Wednesday, December 11, 2024
একশ বছরের সেরা ভৌতিক - সম্পাদনা: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ
ভূত প্রসঙ্গটাই আবহাওয়া বদলে দেয়, রহস্য ঘনীভূত করে তোলে, মানুষ নড়েচড়ে বসে৷ ভূত আছে কি নেই এই প্রশ্ন তো অবান্তর, কারণ কেউই জানে না তা। তবে ভূত আমাদের প্রিয় বিষয়। ভূত এবং ভৌত পরিমণ্ডল আমাদের জীবনের ধরাবাঁধা সীমানাকে প্রসারিত করে দেয়। ভূত মানে শুধু ভয় নয়, মজা, কল্পনার চিন্তার এবং অবশ্যই এক প্রয়োজনীয় অসঙ্গতি। রূপকথা, কল্পবিজ্ঞান বা নননেন্স ভার্সে যেমন লোকে যুক্তি-বিজ্ঞান খুঁজতে যায় না, তেমনি ভূতের গল্পেরও কিছু অধিকার আছে।
Tuesday, December 10, 2024
একান্ত - ইমদাদুল হক মিলন
ফোন নামিয়ে রেজা মনে মনে বলল, এতবার রিং হল ফোনটা কেউ ধরল না কেন! ফ্ল্যাটে কেউ নেই না কী! শাহিন কি আজও, বাইরে গেল! আজকাল দু'একদিন পর পরই কোথায় যায় সে! রেজা অফিসে এল আর সেও বাড়ি থেকে বেরুল। ব্যাপারটা কী!
রেজার ফ্ল্যাটে প্যারালাল লাইন করা দুটো টেলিফোন সেট, একটা তাদের বেডরুমে আরেকটা ডাইনিংস্পেসে। বেডরুমেরটা কর্ডলেস। রেজা কিংবা শাহিন ফ্ল্যাটে না থাকলে বেডরুম লক করা থাকে। তখন ফোন এলে ডাইনিংস্পেসেরটা ধরে জুলেখা....
Saturday, December 7, 2024
সাতকাহন - সমরেশ মজুমদার
এ উপন্যাসের কেন্দ্রচরিত্র সাহসী, স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত এক মেয়ে, দীপা - দীপাবলী, যার নামের মধ্যেই নিহিত অন্ধকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস। নিয়ত সংগ্রামরতা প্রতিমার মতো সেই মেয়ে দীপা, আর চালচিত্রে একের পর এক বর্ণাঢ্য ছবি। উত্তরবাংলার চা-বাগান, গাছগাছালি আর আঙরাভাসা নদী দিয়ে সে চালচিত্রের সূচনা। দ্বিতীয় খন্ডে ক্রমান্বয়ে ফুটে উঠেছে পঞ্চাশের কলকাতা ও শহরতলি, কো-এডুকেশন কলেজ, মেয়েদের হোস্টেল, কফি হাউস, সমকালীন ছাত্র-আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটভূমি, সর্বভারতীয় কর্মজীবনের পরিবেশ ও প্রতিকূলতার জীবন্ত চিত্রাবলি। স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি জীবনে স্বাধীকার অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রয়াসে মেয়েদের সাধ, সংকল্প ও সংগ্রামের এক জীবন্ত, ধারাবাহিক ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে সমরেশ মজুমদারের সুদীর্ঘ, সুকল্পিত, সুবিন্যস্ত এই উপন্যাস।
পার্থিব - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
'পার্থিব' উপন্যাসের লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।উপন্যাসটি আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে ধারাবাহিক ভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে লেখক মানুষের নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়ার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন অত্যন্ত চমৎকার ভাবে। 'পার্থিব' মানে- পৃথিবী-সংক্রান্ত, জাগতিক, ইহকাল বুঝায়। 'পার্থিব' বিশাল এক উপন্যাস। ৭১৩ পৃষ্ঠা। এত বড় উপন্যাস কিন্তু পড়তে একটুও বিরক্ত লাগে না। আমি উপন্যাসটি এবার নিয়ে তিনবার পড়লাম। যত পড়ি তত ভালো লাগে। লেখক সহজ সরল ভাবে কি সুন্দর করেই না লিখে গেছেন! আমাদের দেশে কি বর্তমানে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে তুলনা করা যায় এমন কোনো লেখক আছেন?
পুরো উপন্যাসে অনেক গুলো চরিত্র। অথচ কোথাও একটুও জট পাকায় নি। এই বিশাল উপন্যাসে কে যে কেন্দ্রিয় চরিত্র সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। প্রতিটা চরিত্রই আমাকে মুগ্ধ করেছে। যখন যার অংশ পড়েছি তাকেই প্রধান চরিত্র বলে মনে হয়েছে। উপন্যাসটি পড়তে শুরু করলেই বুঝা যায় লেখক খুব দরদ দিয়ে, পরম মমতায় চরিত্র গুলো তৈরি করেছেন। প্রতিটা চরিত্রের প্রতি লেখক সমান ভালোবাসা দেখিয়েছেন। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে এমন হয়েছে- আমি যেন চরিত্র গুলোর সাথে মিশে গিয়েছি। তাদের আনন্দে আনন্দ পাই। তাদের কষ্টে পাই। লেখকের লেখার গুনের জন্য মনে হয় উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্র যেন আমি নিজ চোখে দেখছি।
Friday, December 6, 2024
অনি - সমরেশ মজুমদার
বইটির মুখবন্ধে সমরেশ মজুমদার যা বলেছেন...
'উত্তবাধিকার' উপন্যাসটির বিপুল জনপ্রিয়তা সত্বেও আমার মনে একটা অস্বস্তি থেকেই গিয়েছিল। আট থেকে পনেরর অনিকে তার সমবয়সী পাঠকের হাতে তুলে দিতে অনেক অভিভাবক দ্বিধা করছেন। বড়দের জন্যে লেখা উপন্যাসের জটিলতা ছোটদের বোঝার কথাও নয়, অথচ অনির ছেলেবেলা আমাদের সবার স্মরণীয় দিন।
আর এই কারণেই সমবয়সীদের হাতে তুলে দিতে নতুন করে সম্পাদিত হল 'অনি'। যে সোনার ছেলেবেলা তার অজস্র কৌতূহল, রেখাতে এবং সারল্য নিয়ে আমরা কাটিয়ে এসেছি তাই এখনকার কিশোরদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি ধন্য।
আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি দশ বারো বছরের বুকে যে রোমান্টিক হৃদয় শব্দ করে চলে তা অনিরই হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।
অগ্নিরথ - সমরেশ মজুমদার
উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ এইসব বইয়ের মাঝে চাপাপড়া অসাধারণ একটি বই সমরেশ মজুমদারের অগ্নিরথ।
কলকাতার একান্নবর্তী পরিবারের ছেলে সায়ন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্যে দার্জিলিং চলে আসে কিশোর বয়সে।পাহাড় আর সমতলের জীবনধারার সমন্বয়ে উপন্যাসের ব্যপ্তি হলেও গল্পের সব চমক যেন লুকিয়ে আছে পাহাড়ে প্রতিটি ঢালে।
শুরুটা বলা যায় পাহাড়ের কোলে যিশুর মুর্তির কাছে নিভে যাওয়া মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। সেই সময় কিছু পাহাড়ি মানুষ দেখতে পায় অপার্থিব আলো যেন ঠিকরে আসছে সায়নের কাছ থেকে। তারা সায়নকে ঈশ্বরের আশীর্বাদপুত্র মনে করে দেবতার আসনে বসাতে চায় যার জীবন লিওকেমিয়ায় আক্রান্ত ।
অপরদিকে, কলকাতায় ভাঙ্গনের সুর তাদের একান্নবর্তী পরিবারে, যেখানে শুধু সায়নের মা নয় পরিবারের প্রতিটি নারী সদস্য বাস করেন পরিচয়হীন ভাবে। আর পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেন তাদের স্বার্থপরতার রুপ দিয়ে হিংসা আর বিদ্বেষের আদিম পৃথিবীতে নিয়ে যেতে চায় তাদের পরিবারকে, বেড়াতে এসে তাই সায়ন নিজেকে পাহাড়ে খুঁজে পায়, আবার অসুস্থ হয়ে ফিরে আসে নিরাময়ে।
কলকাতার সে প্রাচীন পৃথিবী ছেড়ে সায়ন ধীরে ধীরে আপন হয়ে উঠে পাহাড়ের মানুষের মাঝে।
ডাক্তার আংকেল, পাদ্রী ব্রাউন, ম্যাথুস, ছোট বাহাদুর এবং নিরাময়কে ঘিরে বেঁচে থাকার অন্য পরিবেশে ভালোবাসার যিশু হয়ে উঠে মৃত্যুপথযাত্রী সায়ন।
পাহাড়ে প্রতিটি মানুষ সায়নের জন্যে হয়ে উঠে আপনজন, তাদের একজন হয়ে বিদেশী এলিজাবেথের সাথে লেগে পড়েন তাদের জীবনের মানউন্নয়নের কাজে। কিন্তু রাজনীতি এখানেও বাঁধসাধে । পথভ্রষ্ট কিছু তরুনের হাতে নির্মম পরিনতি নেমে আসে এলিজাবেথের উপর। স্বপ্নের কোন এক নির্জন পাহাড়ের মাঝে দাউদাউ করে ছুটে চলে বিবস্ত্র এলিজাবেথের দেহে অগ্নিরথ, বেঁচে থাকা হয় না সায়নের, এ যেন এক স্বপ্নের মৃত্যু লিউকোমিয়ায় মৃত্যুর পূর্বেই ।
অদ্ভুত আনন্দরসে ভরা এই উপন্যাস "অগ্নিরথ"।
Tuesday, December 3, 2024
মৌষলকাল - সমরেশ মজুমদার
মৌষলকাল - সমরেশ মজুমদার ১৯৭০-এর নকশাল রাজনীতিতে অনিমেষের জড়িয়ে পড়া এবং পুলিশি অত্যাচারে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার কাহিনী তুমুল এক ইতিহাসের কথাই বলে। সমরেশ মজুমদার এই চরিত্রটিকে নিয়ে তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেছেন, উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ, যা ধারণ করে আছে পশ্চিমবঙ্গের অনতি-অতীতকালে রাজনৈতিক-সামাজিক সময়প্রবাহ। অনিমেষের বান্ধবী হিসেবে সময়ের সঙ্গে যুঝেছে মাধবীলতা। বাংলা কথাসাহিত্যে মাধবীলতা-অনিমেষ জুটি সমরেশ মজুমদারের অনবদ্য সৃষ্টি। সময়ের ফসল হিসেবে এসেছে তাদের সন্তান অর্ক। বড় হয়ে অর্কও দুঃখী মানুষদের নিয়ে সাধ্যমতো স্বপ্নপ্রয়াসে জড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যর্থ হয়েছে যথারীতি। সর্বত্রই ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল হিংস্র থাবা নিয়ে তৈরি। প্রায় তিন দশক সময় অতিক্রম করে সমরেশ মজুমদার লিখেছেন অনিমেষ-মাধবীলতা-অর্কের নতুন কাহিনী ‘মৌষলকাল’। এই উপন্যাসের আধার পশ্চিমবঙ্গের এক উত্তাল সময়।
রাজনৈতিক পালাবদলের সেই ইতিহাসের নানান বাঁকে উপস্থিত মাঝবয়সি অর্ক। স্বভাব-প্রতিবাদে, আবেগে, অস্পষ্ট ভালবাসায় অর্ক যেন এক অবাধ্য স্বর। মৌষল পর্বের পারস্পরিক অবিশ্বাসের দিনকালেও প্রৌঢ় অনিমেষ-মাধবীলতা ঝলসে ওঠে আর একবার। কেউ বিপ্লব-বিশ্বাস, কেউ-বা জীবন-বিশ্বাসে অটুট। কাহিনী নির্মাণের জাদুরক সমরেশ মজুমদারের অনবদ্য সৃষ্টি মৌষলকাল।
Monday, December 2, 2024
কালপুরুষ - সমরেশ মজুমদার
কালপুরুষ সমরেশ মজুমদারের ট্রিলোজি সিরিজের শেষ বই। উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ বই তিনটা নিয়ে এই ট্রিলোজি সিরিজ। কালপুরুষ উপন্যাসে অনিমেষ আর মাধবীলতার ভালোবাসার ফুল ফুটফুটে অর্ক’র জন্ম হয়। অর্ক নামটা মা মাধবীলতার দেয়া। অর্ক মানে সূর্য। অর্ক যেন তাদের নিস্তব্ধ জীবনে একফালি সূর্য।
ঈশ্বরপুকুর লেনের ঘুপচি ঘরে আশেপাশের শত কদর্যতার মাঝে বেড়ে ওঠা অর্ককে নিয়ে সবসময়ই ভয়ে থাকে মাধবীলতা। বস্তিতে থাকার মাশুল অবশ্য দিতেই হয় অনিমেষ আর মাধবীলতাকে। সংসার চালানোর চাপ আর ঋণের জালে জর্জরিত মাধবীলতা, পুলিশের অত্যাচারে পঙ্গু অসহায় অনিমেষের শত সতর্কতার পরও অর্ক আস্তে আস্তে বস্তির পরিবেশে আসক্ত হতে থাকে। মুখের ভাষা হয়ে যায় খিস্তি মেশানো। বন্ধু-বান্ধবদের প্ররোচনায় একসময় ভুল পথে পা বাড়ায় অর্ক। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে সারাদিন রকে আড্ডা আর বখাটেপনা করে বেড়ানোই তার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। বাবা অনিমেষকে কথায় কথায় অপমান করতেও ছাড়ে না অর্ক। বাবাকে এমন সব কথা সে বলে যা ছেলে হিসাবে কখনোই বলা উচিত নয়। অবশেষে অর্ক বিলুর সাথে ব্ল্যাক টিকেটের ব্যবসা শুরু করে।
সত্তর দশকের অপরিনামী রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় শেষ পর্বে কালবেলার নায়ক অনিমেষ মিত্র ছিলেন একজন নকশাল আন্দোলনকারী। ভার্সিটি জীবনের শেষ দিকে দেশটাকে বদলানোর উদ্দেশ্যে নকশাল আন্দোলনে যোগদান করে। যার ফলস্বরূপ তার ঠিকানা হয়ে উঠে কারাগার। জীবন থেকে আটটি বছর ছুড়ে ফেলে দিতে হয়, বেছে নিতে হয় পঙ্গুত্ব। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে সে কারো বোঝা হতে চায় নি। কিন্তু তার প্রিয়তমা মাধবীলতা তাকে ছেড়ে যেতে নারাজ। মাধবীলতা চায় নি তাদের পুত্র অর্ক, পিতৃ পরিচয় ছাড়া বেঁচে থাকুক। সে কাগজে-কলমে বিয়ে করে তাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসটাকেও অপমান করতে চায় নি।
অনিমেষের চিকিৎসার খরচসহ তিনজনের ছোট্ট পরিবারটার সমস্ত খরচ মাধবীলতা একাই বহন করে চলে। মাধবীলতা একটা স্কুলে মাস্টারি করে। বাড়তি কিছু আয়ের জন্য টিউশনি করায়। সেই টাকা দিয়েই তাদের তিন জনের সংসার চলে কোনমতে। তাছাড়া অনিমেষকে সুস্থ করতেও মাধবীলতা প্রচুর টাকা খরচ করে। কিন্তু অনিমেষ সুস্থ হতে পারে না তেমন। অনিমেষের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ঋণও হয়ে যায়। মাধবীলতা নিজেকে পরিবারের জন্য উজাড় করতে থাকে। তাই না চাইতেও তাদের ঠিকানা হয়ে উঠে বস্তিতে। অনিমেষ আশা করেছিলো তার পুত্র অর্ক তার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নিশানটি শক্ত হাতে বয়ে নিয়ে চলবে। কিন্তু সমকালীন অন্তঃসারহীন কুটিল রাজনীতি এবং পঙ্কিল সমাজব্যবস্থা অর্ককে করে তুলেছিল অন্ধকার অসামাজিক রাজত্বের প্রতিনিধি। কিন্তু যেহেতু তার রক্তের মধ্যে ছিল অনিমেষের সুস্থ আদর্শবাদ এবং তার মা মাধবীলতার দৃঢ়তা ও পবিত্রতার সংমিশ্রিত উপাদান, সেই হেতু তার বোধোদয় ঘটতে বিলম্ব হয় নি।
একটা ঘটনায় সমাজের উচু তলার কিছু মানুষগুলোর আসল চেহারাটা সামনে আসে অর্কর। এইসব দেখেশুনে তীব্র প্রতিবাদে মুখরিত হয়ে ওঠে অর্ক। নিজের সাথে নিজেই প্রতিজ্ঞা করে সমাজের এসব অসঙ্গতির সাথে কখনোই তাল মেলাবে না। সত্যকে সত্য, অন্যায়কে অন্যায়ই বলবে। বস্তির লোকজনকে সাথে নিয়ে নতুন এক আন্দোলনে সামিল হয় সে। এক পরিবার এক হাড়ি হিসেব করে পুরো বস্তিকে সাথে নিয়ে শুরু করে এক বিরল ধরনের কাজ। নির্দিষ্ট একটা অর্থের বিনিময়ে সারা মাস তিনবেলা সবাইকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয় সে।
এসব দেখেশুনে আশার সঞ্চার হয় অনিমেষ মাধবীলতার মনে। অর্কও আদর্শবান হয়ে উঠেছিল। এক ভিন্ন মানসিকতার সে আহ্বান শুনেছিলো চিরকালীন মানবতার। একদিকে সু্যোগসন্ধানী রাজনৈতিক দল এবং অপরদিকে সুবিধাবাদী সমাজব্যবস্থার যুপকাষ্ঠে নিষ্পেষিত ও নিপীড়িত কিছু মানুষ। অর্ক তাদের একত্রিত করে উদ্বুদ্ধ করেছিলো নতুনভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তাদের সামনে তুলে ধরেছিলো আগামী পৃথিবীর সুন্দরতম এক মানচিত্র। কিন্তু ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল ও সমাজ অর্ককে অর্গলবদ্ধ করে সেই পৃথিবীর স্থানটি ভেঙে চুরমার করতে দ্বিধাবোধ করে নি। কিন্তু অর্ক যার অপর নাম সূর্য- তার আবির্ভাবকে কি চিরকালের মতো রুদ্ধ করে রাখা যায়?
কালপুরুষ উপন্যাসের সমাপ্তিতে মানবতার আহ্বানের প্রতিধ্বনি স্পষ্টতর। আর তাতেই উপন্যাসটি পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবিষ্ট হয়ে থাকতে হয় প্রতিটি পাঠকে। বইটি এখনো যারা পড়েন নি তারা সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন। খুব ভালো সময় কাটবে আপনার কালপুরুষ-এর সাথে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়!

























.jpg)





.jpeg)



.jpeg)

