Pages

Saturday, December 10, 2022

রাজনগর - অমিয়ভূষণ মজুমদার

রাজনগর উপন্যাসটি পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে গত শতকের সত্তর দশকের গোড়ায় আর এটি গ্রন্থ হিসেবে বাজারে এসেছে তিরাশি সনে। ১৮৬০ সন থেকে ১৮৮৩ সন-ব্যাপী মোট তেইশ বছরের কড়চা এটি। একটি রাজপরিবার ঘিরে তেইশ বছরের চালচিত্র এ উপন্যাস। সতেরো পরিচ্ছদবিশিষ্ট বড় একটি উপন্যাস এটি। শুরু হয়েছে ফিটন- গোরুর গাড়ি দিয়ে আর শেষ হয়েছে অ্যালবাট্রসের মতো স্টিমারটির কুতঘাটে নোঙর করা আর রাজনগরে রেলস্টেশন প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে। এটি বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক উপন্যাস না হলেও ইতিহাস আশ্রিত গল্প তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সময়কে ধরার জন্য অমিয়ভূষণের যে নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতা তা সত্যিই ধন্যবাদ দেওয়ার মতো।

রাজনগর - অমিয়ভূষণ মজুমদার


রক্তচোষা - অজেয় রায়

"ঘাটশিলা শহরটি তকতকে পরিষ্কার। বাড়িঘর লোকজনের ঘেঁষাঘেষি নেই। শহরের বাইরে চারপাশে ধু-ধু পাথুরে মাঠ। কোথাও শাল বন। একধারে পরপর কতগুলো জঙ্গলে ঢাকা ছোট ছোট পাহাড়। শহরের পাশ দিয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। চওড়া নদীখাতের ভিতর প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড পাথরের চাইয়ের ফাঁকে হু-হুঁ করে জল ছুটে চলেছে। সুবর্ণরেখা ছাড়াও কয়েকটি ছোট ছোট পাহাড়ি নদী আছে ধারে কাছে...


রক্তচোষা - অজেয় রায়


 

মুঙ্গু - অজেয় রায়

যেদিন প্রথম ছোটদের জন্য দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প লেখা শুরু হয়েছিল, সেদিন থেকে শিশুসাহিত্যের একটা নতুন দিগন্ত খুলে গেছিল। বলা বাহুল্য, এর সূচনা হয়েছিল ইয়োরোপে। এবং সে সময়ে শিশুসাহিত্যের কয়েকটি শ্রেষ্ঠ রত্ন দিনের আলোর মুখ দেখেছিল। রবার্ট লুইস স্টিভেনের ট্রেজার আইল্যান্ড, কিডন্যান্ড, জুল ভের্নের ছোটবড় সকলের জন্য লেখা নানান বিজ্ঞানভিত্তিক কিংবা অসমসাহসিক অভিযানের নানান বইয়ের গুণ আজ পর্যন্ত ম্লান হয়নি। পৃথিবীর অত্যাশ্চর্য বিস্ময়ের দিকটা চিরকালই ছোটদের মুগ্ধ করেছে। এ-ও তাদের বড় হওয়ার একটা বলিষ্ঠ দিক; অজ্ঞাতকে জানবার, দুর্গমকে জয় করবার, প্রতিকূল শক্তির সঙ্গে লড়বার, দেহ-মনের বল আহরণের প্রবল একটা দিক...


মুঙ্গু - অজেয় রায়

মিস্টার বাসুর ফরমুলা - অজেয় রায়

অজেয় রায় হলেন প্রকৃত বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাসের জগতে একজন বিশিষ্ট লেখক। এঁর গল্পে সরস ভাষায় প্রকৃত বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশন করা হয়। এগুলি পাঠ্যপুস্তকের চাইতে বেশি মূল্যবান, কারণ ছেলেমানুষরা আনন্দ এবং আগ্রহের সঙ্গে পড়ে। এঁর প্রচ্ছন্ন রসিকতাগুলিও পরম উপভোগ্য। আজগুবি গল্প লেখা বরং সহজ, কিন্তু তথ্যসমৃদ্ধ আনন্দের উপাদানের অনেক বেশি দাম।


মিস্টার বাসুর ফরমুলা - অজেয় রায়

মানুক দেওতার রহস্য সন্ধানে - অজেয় রায়

সে কীরে, ব্যাংকক! তপনের বন্ধুরা শুনে আঁতকে উঠল।
কেন, তাতে কী? তপন দৃঢ়স্বরে জানায়, লোকে ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছে না? পড়তে যাচ্ছে, চাকরি করতে যাচ্ছে। এ-তো ঢের কাছে। ব্যাংকক চমৎকার শহর। আর। সুনীলদা বলেছে চাকরিটাও ভালো। এক পাঞ্জাবি ব্যবসাদার ও-দেশ থেকে মশলা নিয়ে। ভারতে চালান দেয়। ওর ব্যাংকক অফিসের জন্য একজন বিশ্বাসী লোক চাই। ভালো মাইনে দেবে। অনেক বাঙালি থাকে ওখানে। সাউথ-ইস্ট-এশিয়ার সঙ্গে ভারতের কদ্দিনের যোগাযোগ জানিস?
সব শুনে বন্ধুরা ঘাড় নাড়ল, তা বটে, তা বটে। ঠিক আছে, যা দেখ কেমন লাগে। ছুটি- টুটি দেবে তো?
অত দূরে? মা খবরটা শুনে তপনের মুখের দিকে চেয়ে বললেন। তপনের বাবা নেই। মা একটা স্কুলে পড়ান।
তপন বলল, কিছু দূরে নয়। তুমি ভেবো না। সুনীলদা অ্যাদ্দিন রয়েছেন।

এভাবেই গল্পের শুরু...

মানুক দেওতার রহস্য সন্ধানে - অজেয় রায়

বাস্তেন দ্বীপে অভিযান - অজেয় রায়

সুনন্দ হঠাৎ খপ করে আমার হাতটা চেপে ধরে বলল, দাঁড়া। সামনে একটা ছিনতাই কেল মনে হচ্ছে। দেখি ব্যাপারটা? দুজনে স্তব্ধ হয়ে যাই। একটু সরে গেলাম পাশে গাছের ছায়ার আড়ালে। চুপচাপ দেখতে থাকি।

কলকাতা শহর। রাত দশটা বাজে প্রায়। আমি আর বন্ধু সুনন্দ গিয়েছিলাম গঙ্গার ধারে বেড়াতে বেড়াতে এবং আড্ডা মারতে। ওখানে আরও কয়েকজন বন্ধু প্রায়ই জমা হই সন্ধে থেকে।

হেঁটে ফিরছিলাম রাজভবনের গা ঘেঁষে। এসপ্ল্যানেড় অবধি হেঁটে গিয়ে বাস ধরব। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ। গরম কমেছে কলকাতায়। তবে শীত পড়েনি তেমন। ভালোই লাগছিল হাঁটতে। ফুটপাতে তখন পথচারীর সংখ্যা বেশ কম। রাস্তায় গাড়ি ছুটছে। হু হু করে মাঝে মাঝে। রাজভবনের পাঁচিলের ধারে ধারে গাছগুলোর লম্বা লম্বা ছায়া পড়েছে ফুটপাতে। এক ফালি চাঁদ আবছা আলো ছড়াচ্ছে আকাশে। স্ট্রিট লাইটগুলো অবশ্য জ্বলছে। আলো-আঁধারি মিশেল বেশ রহস্যময় পরিবেশ...

বাস্তেন দ্বীপে অভিযান - অজেয় রায়


 

কেল্লাপাহাড়ের গুপ্তধন - অজেয় রায়

চৈত্র মাস। রতন এসে প্রস্তাব দিল, চল, কেওঞ্চরগড় বেড়িয়ে আসি। ছোটকাকার বাড়ি।

রতন ও আমি ছেলেবেলার বন্ধ। ও ভূতত্তের ছাত্র, আপাতত গবেষণা করছে। আমার বিষয় প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস। আমিও গবেষণা করছি একটি ফেলোশিপ পেয়ে- প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে।

কেওঞ্চর উড়িষ্যার শহর এইটুকুই জানতাম, তার বেশি কিছু না। তাই প্রথমটা একটু গাঁইগুঁই করছিলাম। রতন তাড়া দিয়ে বলল, চ চ, প্রাগৈতিহাসিক! শুনেছি জায়গাটা দারুণ। যাসনি তো কখনও। দুজনেরই খোরাক মিলবে। ওখানে প্রচুর পাহাড়-জঙ্গল। ছোট বড় পুরনো মন্দির আর মুর্তির ছড়াছড়ি। আমিও ধারে-কাছের খনিগুলো দেখে নেব। আর কাকা কাকিমা দুজনেই গ্র্যান্ড লোক, বুঝলি।

দিন কয়েকের মধ্যেই কেওঞ্জরগড় গিয়ে হাজির হলাম। রতনের কাকা মিস্টার দত্তকে দেখে প্রথমে একটু ঘাবড়েছিলাম। বয়স প্রায় পঞ্চাশ বছর, লম্বা ভারিক্কি সুপুরুষ চেহারা...

কেল্লাপাহাড়ের গুপ্তধন - অজেয় রায়

আমাজনের গহনে - অজেয় রায়

দুনিয়ায় কত জায়গাতেই তো যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সাধ থাকলেই সাধ্যে, কুলোয় না। তাই মনে মনে বেড়াতে যেতে পারি এমন সুযোগ একমাত্র যাতে পাওয়া যায় তেমন বই পেলে আর কোনো দুঃখ থাকে না। কিন্তু তেমন বই কি সহজে মেলে? যাঁর কল্পনায় ভর করে যাব, তিনি হয়তো যেখানকার কথা বলছেন, সেখানে নিজে তো যান-ই নি, ভালো করে ঠিকমতো খবরাখবরও রাখবার চেষ্টা করেননি। তিনি হয়তো উত্তর মেরুতে পেঙ্গুইন পাখি দেখিয়ে ছাড়বেন আর দক্ষিণ মেরুতে শাদা ভাল্লুক।

তবে সে রকম বই যে বাংলায় মোটে নেই, তা কেউ যেন না বলে। এই তো আমার হাতে রয়েছে আমাজনের গহনে। যেমন তেমন জায়গায় নয়, সেই দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরের অজানা পেরু আর বলিভিয়ার যে সব অঞ্চলে আমাজন নদীর সব ধারাপথ এখনো পুরোপুরি খুঁজে বার করা হয়নি, সেইখানে যদি যেতে হয় তো আমি অজেয় রায়ের সঙ্গেই যাব। উত্তেজনা রোমাঞ্চ গা-ছমছম করা ভয় আর রুদ্ধশ্বাস উদ্বেগের খোরাক তো পুরোপুরি পাবই, সেইসঙ্গে এইটুকু নিশ্চিত মানব যে প্রাকৃতিক ভৌগোলিক যা সব বিবরণ পাচ্ছি, তার মধ্যে এতটুকু ভুল কোথাও নেই। আমাদের ছোটদের মনগুলোকে সমস্ত পৃথিবীতে সার্থকভাবে ঘুরিয়ে আনবার জন্যে এই আমাজনের গহনের মতো বই আর অজেয় রায়ের মতো লেখকের বড় দরকার।

আমাজনের গহনে - অজেয় রায়

Thursday, December 1, 2022

হাফ গার্ল ফ্রেন্ড - চেতন ভগত

বিহারের এক মেধাবী, বাস্কেটবল খেলায় পারদর্শী এবং সৌম্যদর্শন তরুন- মাধব ঝা। বড় বংশের ছেলে সে। তবে বংশ টিকে থাকলেও সময়ের গর্ভে হারিয়েছে বড় শব্দটি। দিল্লীর নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম কলেজে পড়তে এসে দেখা হয় রিয়ার সাথে। জীবনে নতুন দুয়ার খুলে যায় তার।

রাজ্যহীন রাজকুমার মাধবের পরিবার, হারানো ঐতিহ্য এমনকি ছোট্ট ঘরের গল্পের মণ্ত্রমুগ্ধ শ্রোতা রিয়া নিজের কথা বলে কমই। ধনাঢ্য পিতার মেয়ে হয়েও যেন গল্প করার বিষয় ছিল না তার। আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন এই সুন্দর মেয়েটিকে কোন সে গোপন ব্যথা নিশ্চুপ করে রাখে?

রিয়া সম্পর্কটাকে শুধু বন্ধুত্বের মাঝে রাখতে চাইলেও বাস্কেটবল ফ্রেন্ড রিয়াকে ভালবেসে ফেলে মাধব। একটা সমঝোতায় আসে দুজনে। রিয়া হয় তার হাফ গার্লফ্রেন্ড।
কিন্তু সামাণ্য একটা ভুল রিয়াকে দূরে চলে যেতে বাধ্য করে। কিভাবে হবে ভুল বুঝাবুঝির অবসান? আদৌ কি হবে?

 

রেভুল্যুশন ২০২০ - চেতন ভগত

২৯৬ পৃষ্ঠার বইটি ত্রিভুজ প্রেমের। কিন্তু শুধু ত্রিভুজ প্রেমের গণ্ডির মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় ‘রেভুলেশন ২০২০’ উপন্যাসটি। বইটিতে একাধারে খুঁজে পাওয়া যাবে দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং তারুণ্যের স্বপ্নের বাস্তবায়নের একাংশ।

রেভুল্যুশন ২০২০ - চেতন ভগত