Pages

Friday, December 20, 2024

শঙ্কু সমগ্র - সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কু কে? তিনি এখন কোথায়? এটুকু জানা গেছে যে তিনি একজন বৈজ্ঞানিক। কেউ কেউ বলে তিনি নাকি একটা ভীষণ পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আবার এও শোনা যায় যে তিনি কোনো অজ্ঞাত অঞ্চলে গা ঢাকা দিয়ে নিজের কাজ করে যাচ্ছেন, সময় হলেই আত্মপ্রকাশ করবেন। প্রফেসর শঙ্কুর প্রতিটি ডায়েরিতে কিছু না কিছু আশ্চর্য অভিজ্ঞতার বিবরণ আছে। কাহিনীগুলো সত্য কি মিথ্যা, সম্ভব কি অসম্ভব, সে বিচার পাঠকরা করবেন!

শঙ্কু সমগ্র - সত্যজিৎ রায়







Sunday, December 15, 2024

ভৌতিক গল্পসমগ্র - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য মুন্সিয়ানা অশরীরীদের অদ্ভুত জগৎ সৃষ্টিতে। কিশোর সাহিত্যে ‘ভূত’দের নিয়ে এক নতুন রস প্রবাহিত করেছেন। ভূত মানেই ভয়ঙ্কর নয়, ভূত মানুষের প্রতিবেশী, ভূত হতে পারে মজার, আবার তা সঙ্গে একটু ছোঁয়া থাকবে শিরশিরে অনুভূতিরও, শীর্ষেন্দুর ভূতেরা অনেকটা এইরকম। আর সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিটি গল্পই একেবারে নতুন স্বাদের, কোনও গল্পের সঙ্গেই তার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেইসব অদ্ভুতুড়ে ভূতেদের একজায়গায় জড়ো করে পরিবেশিত হলো ভৌতিক গল্পসম্ভার। এর কুড়িটা গল্পে রয়েছে কুড়ি রকম ভূত। ‘দুই পালোয়ান’থেকে শুরু করে ‘কোগ্রামের মধুপণ্ডিত’- বাকি নেই কেউ।

 

 

 

Friday, December 13, 2024

মাধুকরী - বুদ্ধদেব গুহ

পৃথু ঘোষ চেয়েছিল, বড় বাঘের মতো বাঁচবে। বড় বাঘের যেমন হতে হয় না কারও উপর নির্ভরশীল - না নারী, না সংসার, না গৃহ, না সমাজ - সেভাবেই বাঁচবে সে, স্বরাট, স্বয়ম্ভর হয়ে। তার বন্ধু ছিল তথাকথিত সভ্য সমাজের অপাঙক্তেয়রা। পৃথু ঘোষ বিশ্বাস করত, এই পৃথিবীতে এক নতুন ধর্মের দিন সমাসন্ন। সে-ধর্মে সমান মান-মৰ্য্যদা এবং সুখ-স্বাধীনতা পাবে প্রতিটি নারী-পুরুষ। বিশ্বাস করত, এই ছোট্ট জীবনে বাঁচার মতো বাঁচতে হবে প্রতিটি মানুষকে। শুধু প্রশ্বাস নেওয়া আর নিশ্বাস ফেলা বাঁচার সমার্থক নয়। কিন্তু সত্যিই কি এভাবে বাঁচতে পারবে পৃথু ঘোষ? সে কি জানবে না, বড় বাঘের মতো বাঁচতে পারে না কোনও নরম মানুষ? জন্ম থেকে আমৃত্যুকাল অগণিত নারী-পুরুষ-শিশুর হৃদয়ের, শরীরের দোরে-দোরে হাত পেতে ঘুরে-ঘুরে বেঁচে থাকাই মানুষের নিয়তি? এই পরিক্রমারই অন্য নাম মাধুকরী?

মাধুকরী - বুদ্ধদেব গুহ

এক আলোড়ন-তোলা কাহিনীর মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন ভাষ্যেরই এক অসাধারণ ভাষারূপ এ-যুগের অন্যতম জনপ্রিয় কথাকার বুদ্ধদেব গুহর এই বিশাল, বৰ্ণময়, বেগবান উপন্যাস। এ শুধু ইঞ্জিনিয়ার পৃথু ঘোষের বিচিত্র জীবনকাহিনী নয়, নয় “উওম্যানস লিব’-এর মূর্ত প্রতীক তার স্ত্রী রুষার দ্বন্দ্বময় জীবনের গল্প, এমনকি, জঙ্গলমহলের অকৃত্রিম কিছু শিকড় খুঁজেফেরা মানুষের অজানা উপাখ্যানও নয়। এ-সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে তবু এ-সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে 'মাধুকরী' এই শতকের মানুষের জীবনের যাবতীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী প্রজন্মের মানুষের সার্থকভাবে বেঁচে থাকার ঠিকানা। এই কারণেই বুঝি এ-উপন্যাস উৎসর্গ করা হয়েছে 'একবিংশ শতাব্দীর নারী ও পুরুষদের' হাতে। সাধারণ পাঠকের মন ও বুদ্ধিজীবী পাঠকের মনন - দু-তন্ত্রীতেই একসঙ্গে ঝঙ্কার তোলার উপন্যাস 'মাধুকরী'। এর কাহিনী, ভাষা, স্টাইল, জীবনদর্শন, শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমারেখা - সবই নতুন। জীবনের প্রতি আসক্তি ও আসক্তির মধ্যে লুকিয়ে-থাকা বিতৃষ্ণাকে যে-চমকপ্ৰদ ভঙ্গিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন বুদ্ধদেব গুহ, যে-নৈপুণ্যে বর্ণনায় এনেছেন সূক্ষ্মতা, যে-কুশলতায় ছোট-বড় প্রতিটি চরিত্রকে দেখিয়েছেন চিরে-চিরে, যে-দক্ষতায় দেশি-বিদেশি অজস্ৰ কবিতার ব্যবহার - সে-সবই এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় পাঠককে। বাংলা সাহিত্যে ব্যতিক্রমী সংযোজন ‘মাধুকরী'।



Wednesday, December 11, 2024

একশ বছরের সেরা ভৌতিক - সম্পাদনা: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ

ভূত প্রসঙ্গটাই আবহাওয়া বদলে দেয়, রহস্য ঘনীভূত করে তোলে, মানুষ নড়েচড়ে বসে৷ ভূত আছে কি নেই এই প্রশ্ন তো অবান্তর, কারণ কেউই জানে না তা। তবে ভূত আমাদের প্রিয় বিষয়। ভূত এবং ভৌত পরিমণ্ডল আমাদের জীবনের ধরাবাঁধা সীমানাকে প্রসারিত করে দেয়। ভূত মানে শুধু ভয় নয়, মজা, কল্পনার চিন্তার এবং অবশ্যই এক প্রয়োজনীয় অসঙ্গতি। রূপকথা, কল্পবিজ্ঞান বা নননেন্স ভার্সে যেমন লোকে যুক্তি-বিজ্ঞান খুঁজতে যায় না, তেমনি ভূতের গল্পেরও কিছু অধিকার আছে।

একশ বছরের সেরা ভৌতিক - সম্পাদনা: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ




Tuesday, December 10, 2024

একান্ত - ইমদাদুল হক মিলন

ফোন নামিয়ে রেজা মনে মনে বলল, এতবার রিং হল ফোনটা কেউ ধরল না কেন! ফ্ল্যাটে কেউ নেই না কী! শাহিন কি আজও, বাইরে গেল! আজকাল দু'একদিন পর পরই কোথায় যায় সে! রেজা অফিসে এল আর সেও বাড়ি থেকে বেরুল। ব্যাপারটা কী!

রেজার ফ্ল্যাটে প্যারালাল লাইন করা দুটো টেলিফোন সেট, একটা তাদের বেডরুমে আরেকটা ডাইনিংস্পেসে। বেডরুমেরটা কর্ডলেস। রেজা কিংবা শাহিন ফ্ল্যাটে না থাকলে বেডরুম লক করা থাকে। তখন ফোন এলে ডাইনিংস্পেসেরটা ধরে জুলেখা....

একান্ত - ইমদাদুল হক মিলন







Saturday, December 7, 2024

সাতকাহন - সমরেশ মজুমদার

এ উপন্যাসের কেন্দ্রচরিত্র সাহসী, স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত এক মেয়ে, দীপা - দীপাবলী, যার নামের মধ্যেই নিহিত অন্ধকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস। নিয়ত সংগ্রামরতা প্রতিমার মতো সেই মেয়ে দীপা, আর চালচিত্রে একের পর এক বর্ণাঢ্য ছবি। উত্তরবাংলার চা-বাগান, গাছগাছালি আর আঙরাভাসা নদী দিয়ে সে চালচিত্রের সূচনা। দ্বিতীয় খন্ডে ক্রমান্বয়ে ফুটে উঠেছে পঞ্চাশের কলকাতা ও শহরতলি, কো-এডুকেশন কলেজ, মেয়েদের হোস্টেল, কফি হাউস, সমকালীন ছাত্র-আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটভূমি, সর্বভারতীয় কর্মজীবনের পরিবেশ ও প্রতিকূলতার জীবন্ত চিত্রাবলি। স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি জীবনে স্বাধীকার অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রয়াসে মেয়েদের সাধ, সংকল্প ও সংগ্রামের এক জীবন্ত, ধারাবাহিক ছবি ফুটিয়ে তোলার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে সমরেশ মজুমদারের সুদীর্ঘ, সুকল্পিত, সুবিন্যস্ত এই উপন্যাস।

সাতকাহন - সমরেশ মজুমদার





পার্থিব - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

'পার্থিব' উপন্যাসের লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।উপন্যাসটি আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে ধারাবাহিক ভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে লেখক মানুষের নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়ার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন অত্যন্ত চমৎকার ভাবে। 'পার্থিব' মানে- পৃথিবী-সংক্রান্ত, জাগতিক, ইহকাল বুঝায়। 'পার্থিব' বিশাল এক উপন্যাস। ৭১৩ পৃষ্ঠা। এত বড় উপন্যাস কিন্তু পড়তে একটুও বিরক্ত লাগে না। আমি উপন্যাসটি এবার নিয়ে তিনবার পড়লাম। যত পড়ি তত ভালো লাগে। লেখক সহজ সরল ভাবে কি সুন্দর করেই না লিখে গেছেন! আমাদের দেশে কি বর্তমানে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সাথে তুলনা করা যায় এমন কোনো লেখক আছেন?

পার্থিব - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পুরো উপন্যাসে অনেক গুলো চরিত্র। অথচ কোথাও একটুও জট পাকায় নি। এই বিশাল উপন্যাসে কে যে কেন্দ্রিয় চরিত্র সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। প্রতিটা চরিত্রই আমাকে মুগ্ধ করেছে। যখন যার অংশ পড়েছি তাকেই প্রধান চরিত্র বলে মনে হয়েছে। উপন্যাসটি পড়তে শুরু করলেই বুঝা যায় লেখক খুব দরদ দিয়ে, পরম মমতায় চরিত্র গুলো তৈরি করেছেন। প্রতিটা চরিত্রের প্রতি লেখক সমান ভালোবাসা দেখিয়েছেন। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে এমন হয়েছে- আমি যেন চরিত্র গুলোর সাথে মিশে গিয়েছি। তাদের আনন্দে আনন্দ পাই। তাদের কষ্টে পাই। লেখকের লেখার গুনের জন্য মনে হয় উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্র যেন আমি নিজ চোখে দেখছি।



Friday, December 6, 2024

অনি - সমরেশ মজুমদার

বইটির মুখবন্ধে সমরেশ মজুমদার যা বলেছেন...

'উত্তবাধিকার' উপন্যাসটির বিপুল জনপ্রিয়তা সত্বেও আমার মনে একটা অস্বস্তি থেকেই গিয়েছিল। আট থেকে পনেরর অনিকে তার সমবয়সী পাঠকের হাতে তুলে দিতে অনেক অভিভাবক দ্বিধা করছেন। বড়দের জন্যে লেখা উপন্যাসের জটিলতা ছোটদের বোঝার কথাও নয়, অথচ অনির ছেলেবেলা আমাদের সবার স্মরণীয় দিন।

আর এই কারণেই সমবয়সীদের হাতে তুলে দিতে নতুন করে সম্পাদিত হল 'অনি'। যে সোনার ছেলেবেলা তার অজস্র কৌতূহল, রেখাতে এবং সারল্য নিয়ে আমরা কাটিয়ে এসেছি তাই এখনকার কিশোরদের হাতে তুলে দিতে পেরে আমি ধন্য।

আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি দশ বারো বছরের বুকে যে রোমান্টিক হৃদয় শব্দ করে চলে তা অনিরই হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।

অনি - সমরেশ মজুমদার





অগ্নিরথ - সমরেশ মজুমদার

উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ এইসব বইয়ের মাঝে চাপাপড়া অসাধারণ একটি বই সমরেশ মজুমদারের অগ্নিরথ। 

কলকাতার একান্নবর্তী পরিবারের ছেলে সায়ন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্যে দার্জিলিং চলে আসে কিশোর বয়সে।পাহাড় আর সমতলের জীবনধারার সমন্বয়ে উপন্যাসের ব্যপ্তি হলেও গল্পের সব চমক যেন লুকিয়ে আছে পাহাড়ে প্রতিটি ঢালে।

অগ্নিরথ - সমরেশ মজুমদার

শুরুটা বলা যায় পাহাড়ের কোলে যিশুর মুর্তির কাছে নিভে যাওয়া মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। সেই সময় কিছু পাহাড়ি মানুষ দেখতে পায় অপার্থিব আলো যেন ঠিকরে আসছে সায়নের কাছ থেকে। তারা সায়নকে ঈশ্বরের আশীর্বাদপুত্র মনে করে দেবতার আসনে বসাতে চায় যার জীবন লিওকেমিয়ায় আক্রান্ত ।   

অপরদিকে, কলকাতায় ভাঙ্গনের সুর তাদের একান্নবর্তী পরিবারে, যেখানে শুধু সায়নের মা নয় পরিবারের প্রতিটি নারী সদস্য বাস করেন পরিচয়হীন ভাবে। আর পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেন তাদের স্বার্থপরতার রুপ দিয়ে হিংসা আর বিদ্বেষের আদিম পৃথিবীতে নিয়ে যেতে চায় তাদের পরিবারকে, বেড়াতে এসে তাই সায়ন নিজেকে পাহাড়ে খুঁজে পায়, আবার অসুস্থ হয়ে ফিরে আসে নিরাময়ে। 

কলকাতার সে প্রাচীন পৃথিবী ছেড়ে সায়ন ধীরে ধীরে আপন হয়ে উঠে পাহাড়ের মানুষের মাঝে। 

ডাক্তার আংকেল, পাদ্রী ব্রাউন, ম্যাথুস, ছোট বাহাদুর এবং নিরাময়কে ঘিরে বেঁচে থাকার অন্য পরিবেশে ভালোবাসার যিশু হয়ে উঠে মৃত্যুপথযাত্রী সায়ন। 

পাহাড়ে প্রতিটি মানুষ সায়নের জন্যে হয়ে উঠে আপনজন, তাদের একজন হয়ে বিদেশী এলিজাবেথের সাথে লেগে পড়েন তাদের জীবনের মানউন্নয়নের কাজে। কিন্তু রাজনীতি এখানেও বাঁধসাধে । পথভ্রষ্ট কিছু তরুনের হাতে নির্মম পরিনতি নেমে আসে এলিজাবেথের উপর। স্বপ্নের কোন এক নির্জন পাহাড়ের মাঝে দাউদাউ করে ছুটে চলে বিবস্ত্র এলিজাবেথের দেহে অগ্নিরথ, বেঁচে থাকা হয় না সায়নের, এ যেন এক স্বপ্নের মৃত্যু লিউকোমিয়ায় মৃত্যুর পূর্বেই ।  

অদ্ভুত আনন্দরসে ভরা এই উপন্যাস "অগ্নিরথ"।



Tuesday, December 3, 2024

মৌষলকাল - সমরেশ মজুমদার

মৌষলকাল - সমরেশ মজুমদার ১৯৭০-এর নকশাল রাজনীতিতে অনিমেষের জড়িয়ে পড়া এবং পুলিশি অত্যাচারে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার কাহিনী তুমুল এক ইতিহাসের কথাই বলে। সমরেশ মজুমদার এই চরিত্রটিকে নিয়ে তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেছেন, উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ, যা ধারণ করে আছে পশ্চিমবঙ্গের অনতি-অতীতকালে রাজনৈতিক-সামাজিক সময়প্রবাহ। অনিমেষের বান্ধবী হিসেবে সময়ের সঙ্গে যুঝেছে মাধবীলতা। বাংলা কথাসাহিত্যে মাধবীলতা-অনিমেষ জুটি সমরেশ মজুমদারের অনবদ্য সৃষ্টি। সময়ের ফসল হিসেবে এসেছে তাদের সন্তান অর্ক। বড় হয়ে অর্কও দুঃখী মানুষদের নিয়ে সাধ্যমতো স্বপ্নপ্রয়াসে জড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যর্থ হয়েছে যথারীতি। সর্বত্রই ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল হিংস্র থাবা নিয়ে তৈরি। প্রায় তিন দশক সময় অতিক্রম করে সমরেশ মজুমদার লিখেছেন অনিমেষ-মাধবীলতা-অর্কের নতুন কাহিনী ‘মৌষলকাল’। এই উপন্যাসের আধার পশ্চিমবঙ্গের এক উত্তাল সময়।

মৌষলকাল - সমরেশ মজুমদার


রাজনৈতিক পালাবদলের সেই ইতিহাসের নানান বাঁকে উপস্থিত মাঝবয়সি অর্ক। স্বভাব-প্রতিবাদে, আবেগে, অস্পষ্ট ভালবাসায় অর্ক যেন এক অবাধ্য স্বর। মৌষল পর্বের পারস্পরিক অবিশ্বাসের দিনকালেও প্রৌঢ় অনিমেষ-মাধবীলতা ঝলসে ওঠে আর একবার। কেউ বিপ্লব-বিশ্বাস, কেউ-বা জীবন-বিশ্বাসে অটুট। কাহিনী নির্মাণের জাদুরক সমরেশ মজুমদারের অনবদ্য সৃষ্টি মৌষলকাল।

Monday, December 2, 2024

কালপুরুষ - সমরেশ মজুমদার

কালপুরুষ সমরেশ মজুমদারের ট্রিলোজি সিরিজের শেষ বই। উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ বই তিনটা নিয়ে এই ট্রিলোজি সিরিজ। কালপুরুষ উপন্যাসে অনিমেষ আর মাধবীলতার ভালোবাসার ফুল ফুটফুটে অর্ক’র জন্ম হয়। অর্ক নামটা মা মাধবীলতার দেয়া। অর্ক মানে সূর্য। অর্ক যেন তাদের নিস্তব্ধ জীবনে একফালি সূর্য।

ঈশ্বরপুকুর লেনের ঘুপচি ঘরে আশেপাশের শত কদর্যতার মাঝে বেড়ে ওঠা অর্ককে নিয়ে সবসময়ই ভয়ে থাকে মাধবীলতা। বস্তিতে থাকার মাশুল অবশ্য দিতেই হয় অনিমেষ আর মাধবীলতাকে। সংসার চালানোর চাপ আর ঋণের জালে জর্জরিত মাধবীলতা, পুলিশের অত্যাচারে পঙ্গু অসহায় অনিমেষের শত সতর্কতার পরও অর্ক আস্তে আস্তে বস্তির পরিবেশে আসক্ত হতে থাকে। মুখের ভাষা হয়ে যায় খিস্তি মেশানো। বন্ধু-বান্ধবদের প্ররোচনায় একসময় ভুল পথে পা বাড়ায় অর্ক। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে সারাদিন রকে আড্ডা আর বখাটেপনা করে বেড়ানোই তার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। বাবা অনিমেষকে কথায় কথায় অপমান করতেও ছাড়ে না অর্ক। বাবাকে এমন সব কথা সে বলে যা ছেলে হিসাবে কখনোই বলা উচিত নয়। অবশেষে অর্ক বিলুর সাথে ব্ল্যাক টিকেটের ব্যবসা শুরু করে।
 
সত্তর দশকের অপরিনামী রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় শেষ পর্বে কালবেলার নায়ক অনিমেষ মিত্র ছিলেন একজন নকশাল আন্দোলনকারী। ভার্সিটি জীবনের শেষ দিকে দেশটাকে বদলানোর উদ্দেশ্যে নকশাল আন্দোলনে যোগদান করে। যার ফলস্বরূপ তার ঠিকানা হয়ে উঠে কারাগার। জীবন থেকে আটটি বছর ছুড়ে ফেলে দিতে হয়, বেছে নিতে হয় পঙ্গুত্ব। কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে সে কারো বোঝা হতে চায় নি। কিন্তু তার প্রিয়তমা মাধবীলতা তাকে ছেড়ে যেতে নারাজ। মাধবীলতা চায় নি তাদের পুত্র অর্ক, পিতৃ পরিচয় ছাড়া বেঁচে থাকুক। সে কাগজে-কলমে বিয়ে করে তাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসটাকেও অপমান করতে চায় নি।


অনিমেষের চিকিৎসার খরচসহ তিনজনের ছোট্ট পরিবারটার সমস্ত খরচ মাধবীলতা একাই বহন করে চলে। মাধবীলতা একটা স্কুলে মাস্টারি করে। বাড়তি কিছু আয়ের জন্য টিউশনি করায়। সেই টাকা দিয়েই তাদের তিন জনের সংসার চলে কোনমতে। তাছাড়া অনিমেষকে সুস্থ করতেও মাধবীলতা প্রচুর টাকা খরচ করে। কিন্তু অনিমেষ সুস্থ হতে পারে না তেমন। অনিমেষের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ঋণও হয়ে যায়। মাধবীলতা নিজেকে পরিবারের জন্য উজাড় করতে থাকে। তাই না চাইতেও তাদের ঠিকানা হয়ে উঠে বস্তিতে। অনিমেষ আশা করেছিলো তার পুত্র অর্ক তার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নিশানটি শক্ত হাতে বয়ে নিয়ে চলবে। কিন্তু সমকালীন অন্তঃসারহীন কুটিল রাজনীতি এবং পঙ্কিল সমাজব্যবস্থা অর্ককে করে তুলেছিল অন্ধকার অসামাজিক রাজত্বের প্রতিনিধি। কিন্তু যেহেতু তার রক্তের মধ্যে ছিল অনিমেষের সুস্থ আদর্শবাদ এবং তার মা মাধবীলতার দৃঢ়তা ও পবিত্রতার সংমিশ্রিত উপাদান, সেই হেতু তার বোধোদয় ঘটতে বিলম্ব হয় নি।
 
একটা ঘটনায় সমাজের উচু তলার কিছু মানুষগুলোর আসল চেহারাটা সামনে আসে অর্কর। এইসব দেখেশুনে তীব্র প্রতিবাদে মুখরিত হয়ে ওঠে অর্ক। নিজের সাথে নিজেই প্রতিজ্ঞা করে সমাজের এসব অসঙ্গতির সাথে কখনোই তাল মেলাবে না। সত্যকে সত্য, অন্যায়কে অন্যায়ই বলবে। বস্তির লোকজনকে সাথে নিয়ে নতুন এক আন্দোলনে সামিল হয় সে। এক পরিবার এক হাড়ি হিসেব করে পুরো বস্তিকে সাথে নিয়ে শুরু করে এক বিরল ধরনের কাজ। নির্দিষ্ট একটা অর্থের বিনিময়ে সারা মাস তিনবেলা সবাইকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেয় সে।
 
এসব দেখেশুনে আশার সঞ্চার হয় অনিমেষ মাধবীলতার মনে। অর্কও আদর্শবান হয়ে উঠেছিল। এক ভিন্ন মানসিকতার সে আহ্বান শুনেছিলো চিরকালীন মানবতার। একদিকে সু্যোগসন্ধানী রাজনৈতিক দল এবং অপরদিকে সুবিধাবাদী সমাজব্যবস্থার যুপকাষ্ঠে নিষ্পেষিত ও নিপীড়িত কিছু মানুষ। অর্ক তাদের একত্রিত করে উদ্বুদ্ধ করেছিলো নতুনভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তাদের সামনে তুলে ধরেছিলো আগামী পৃথিবীর সুন্দরতম এক মানচিত্র। কিন্তু ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল ও সমাজ অর্ককে অর্গলবদ্ধ করে সেই পৃথিবীর স্থানটি ভেঙে চুরমার করতে দ্বিধাবোধ করে নি। কিন্তু অর্ক যার অপর নাম সূর্য- তার আবির্ভাবকে কি চিরকালের মতো রুদ্ধ করে রাখা যায়?

কালপুরুষ উপন্যাসের সমাপ্তিতে মানবতার আহ্বানের প্রতিধ্বনি স্পষ্টতর। আর তাতেই উপন্যাসটি পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবিষ্ট হয়ে থাকতে হয় প্রতিটি পাঠকে। বইটি এখনো যারা পড়েন নি তারা সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন। খুব ভালো সময় কাটবে আপনার কালপুরুষ-এর সাথে সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়!




 


 

কালবেলা - সমরেশ মজুমদার

সমরেশ মজুমদারের “কালবেলা” এমন একটি উপন্যাস যেখানে প্রেম এবং বিপ্লব একসাথে মিলেমিশে হয়েছে একাকার। “কালবেলা” - যার মানে অশুভ সময়। “কালবেলা” আসলেই একটি অশুভ সময়ের চিত্র উপস্থাপন করেছে। যেই চিত্রে আদর্শের পথে হাঁটতে গিয়ে বিপথগামী হয়েছে তৎকালীন অসংখ্য ভারতীয় তরুণ। তাদের মধ্যে অনিমেষও একজন। মূলত অনিমেষের হাত ধরেই সমগ্র উপন্যাসে সমরেশ মজুমদার তুলে ধরেছেন তৎকালীন সময়টিকে। আর অনিমেষের সঙ্গী হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন মাধবীলতাকে। অনিমেষ আর মাধবীলতার যে প্রেমের সম্পর্ক তা এই উপন্যাসের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে টপকিয়ে খুব সহজেই এটিকে একটি প্রেমের উপন্যাসে পরিণত করেছে। সুতরাং, “কালবেলা” যেমন একটি রাজনৈতিক উপন্যাস তেমনি একটি প্রেমের বা ভালোবাসারও উপন্যাস হিসেবেও এটি সম্পূর্ণ সার্থক। অবশ্য সমরেশ মজুমদার এটিকে রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি এটিকে একটি ভালোবাসার উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই আগ্রহী।

 কালবেলা - সমরেশ মজুমদার

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হল অনিমেষ। প্রথমবারের মতো কলকাতায় এসেই অনিমেষ পায়ে গুলি খায় পুলিশের। এরপর ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়ে কলেজের বাম রাজনীতির সঙ্গে কিন্তু তাতে কেমন যেন খটকা থেকে যায় তার মনে। ফলে অস্ত্র হাতে বিপ্লবের পথে হাঁটতে শুরু করে। বিপ্লবের আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে অনিমেষ বুঝতে পারে যে দাহ্যবস্তুর কোন সৃষ্টিশীল ক্ষমতা নেই। এই বিপ্লবে জড়িয়ে যাবার আগেই অনিমেষের জীবনে জড়িয়ে পড়ে একজন রমণী। যার নাম মাধবীলতা। অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী এই মাধবীলতা। যে জীবনের সবকিছু দিয়ে ভালোবেসে গিয়েছে অনিমেষকে। তার জন্য ভালোবাসাটিই মনে হয় আসল বিষয়। বিনিময়ে আশা করেনি কিছুই কিন্তু ছেঁড়ে আসে সব অতীত, সব বন্ধন এবং পেছনের সব সম্পর্ককে শুধুমাত্র এই ভালোবাসার টানে। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে যেমন অবাক হয়েছি অনিমেষের ব্যক্তিত্ব নিয়ে তেমনি অবাক হয়েছি মাধবীলতার ক্ষেত্রেও। মাধবীলতার ক্ষেত্রে আমি হয়তো আরও একধাপ এগিয়ে ছিলাম। কারণ এই চরিত্রটিকে যতই আবিস্কার করেছি ততই আমার কাছে মনে হয়েছে এ মাধবীলতা যেন আমারই কাঙ্ক্ষিত প্রেমিকা। বারবার প্রেমে পড়েছি আমি এই মাধবীলতার। নিজের সর্বস্ব দিয়ে এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির বলে মাধবীলতা শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজের মাথা উঁচু রাখে, নিজের ভালোবাসাকে সমুন্নত রাখে। ভালোবাসার মাঝে যেন বিপ্লবের আরেক নাম এই মাধবীলতা।

সমরেশ মজুমদারের লেখা “আট কুঠুরি নয় দরজা” এবং “গর্ভধারিণী” বেশ অনেক আগেই পড়েছিলাম। এ দুটো উপন্যাসই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল উনার ভক্ত হবার জন্য। বিশেষ করে “গর্ভধারিণী” উপন্যাসটি ছিল অসাধারণ একটি সৃষ্টি। একই ধারায় উনার “কালবেলা” উপন্যাসটিকেও আমি সম্পূর্ণ একটি সার্থক উপন্যাসের মর্যাদা দিব। কারণ উনার এই উপন্যাসে যেমন উঠে এসেছে সত্তরের দশকের স্বাধীন ভারতবর্ষের চিত্র, তেমনি উঠে এসেছে সেই সময়টি। একই সাথে তৎকালীন ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সাথে সাথে উঠে এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমের চিত্র। একদিকে যেমন প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করা হয়েছে তেমনি আরেক দিকে তুলে ধরা হয়েছে শ্রেণীহীন নতুন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখা একদল তরুণের আন্দোলনের চিত্র। রাজনীতির পথগুলো কতটা তির্যক তা এই উপন্যাসটি পড়লেই বুঝা যায়। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি একজন নারীর জন্য তৎকালীন সময়ের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে এখানে। নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের উঁচু, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের মানসিকতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে এই সমগ্র উপন্যাসে। বাদ যায়নি একজন নর এবং নারীর পারস্পারিক বিশ্বাসে ভালোবাসার চিত্রটিও। সমরেশ মজুমদারের অসাধারণ এক সৃষ্টি এই “কালবেলা”।